অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

ইকবাল হাসান-এর দুটি কবিতা

প্রকাশিত: ০৫:২৬ পিএম, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ শনিবার   আপডেট: ১০:৩৮ এএম, ৬ ডিসেম্বর ২০২০ রোববার

একা

বাড়িটি নিজের নয় যে বাড়িতে থাকি তবে
ইতোমধ্যে উঠেছে অভ্যস্ত হয়ে আমার দু’চোখ
হাত পা’ও জেনে গেছে কোথায় কী আছে
কোথায় রয়েছে জিরা, দারুচিনি, হলুদের গুঁড়ো,
কালিজিরা তেল রাখা আছে কিচেনের কোন্ ক্যাবিনেটে 
শেলফের কোথায় লুকিয়ে আছে ক্যামু ও কাফকা...

এপ্রিলের শেষেও  শীত মাঝে মাঝে তীব্র হয় বলে
গাছের মুকুলগুলো এখনো ফোটেনি, তবুও এখানে
বাড়িতে প্রচুর রোদ আসে ভোরবেলা, সারাদিন থাকে।
বাইরে তাকালে দেখি, একটি শালিখ একা জানালার ধারে
রোদের শরীরে তার ডানা মেলে ধরে। কখনোবা ক্লান্তিতে
ভেঙে পড়া দেহ-নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে আলোর ভেতরে। 

এরচে’ ঢের ভালো অন্ধকার, শবদেহের গলিত জীবন, 
ঢের ভালো পেঁচার ডাকের মতো নগ্ন-হিম গুহার আধার।

 

দুপুর 

একটি পোকার মত পড়ে আছি আঁচলের কাছে
দেখি, তুমি অতি দ্বিধাগ্রস্থ! সিল্ক না জামদানি ?
কোন্টা পরবে আজ ? কোন রঙে তোমাকে আজ
মানাবে উজ্জ্বল? সাজার টেবলে টিপ, লাল দ্বীপ
সাদা আর মেরুণ বেগুনি কোন দ্বীপ বেছে নেবে?
পুরোটা ম্যাচিঙ নিয়ে স্পষ্ট খুব দুপুরের দ্বিধা !

একটি পোকার মত পড়ে আছি আঁচলের কাছে
দেখি, তোমার অস্থির হাত ড্রয়ারে ওয়ারড্রোবে
ঘোরাঘুরি করে। হলুদ শাড়ির সাথে বেমানান
সবুজ ব্লাউজ, তুমি জানো, গোলটিপ আজকাল
কেউ-ই পরে না, যেমন পরে না কেউ চুড়িদার
জামা। টিপের আকারে তাই জ্যামিতি এসেছে।

লেহাঙ্গা, থ্রিপিস থেকে শাড়িই উত্তম; আর ভালো
যে কোনো ব্লাউজ ও শাড়ির নীচে কালো ব্রেসিয়ার।